
জন্ম: ৩০শে অক্টোবর, ১৯২৬
মৃত্যু: ২১শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
জন্মস্থান: ঢাকা জেলার মানিকগঞ্জ মহকুমার অন্তগর্ত সিংগাইর থানার পারিল ইউনিয়নের বলধারা গ্রাম
রফিকউদ্দিন আহমদ ১৯২৬ সালের ৩০শে অক্টোবরে তৎকালীন ঢাকা জেলার মানিকগঞ্জ মহকুমার অন্তগর্ত সিংগাইর থানার পারিল ইউনিয়নের বলধারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁরা বাবার নাম আবদুল লতিফ। মায়ের নাম রাফিজা খাতুন।
রফিক ছিলেন বাবা-মায়ের প্রথম সন্তান। শৈশবে তিনি গ্রামের স্কুলে লেখাপড়া করেন। প্রয়াত আশরাফউদ্দিন চৌধুরী ও বীরেন্দ্রমোহন দত্ত গুপ্ত শিক্ষকদ্বয়ের সুযোগ্য প্রশিক্ষণে রফিক প্রাইমারি শিক্ষা সমাপ্ত করেন। এর পর কলকাতার মিত্র ইনস্টিটিউশনে শিক্ষা লাভ করেন। দেশ বিভাগের কয়েক বছর পর পুনরায় দেশে ফিরে আসেন এবং সিংগাইর থানার বায়রা স্কুলে ভর্তি হন। এই স্কুল থেকেই তিনি প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
রফিক ছড়া রচনা, সেলাই ও সূচীশিল্পে বেশ দক্ষ ছিলেন। সমাজকল্যাণ কাজেও তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল। পরবর্তীকালে রফিক মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্রনাথ কলেজে বাণিজ্য বিভাগে অধ্যয়ন করেন। মাঝে মাঝে পিতার প্রেস ব্যবসা দেখাশুনা করতেন। গান বাজনার প্রতি ঝোঁক ছিল রফিকের। স্কুলজীবন থেকেই তিনি রাজনীতি করতেন। বায়রা হাইস্কুলের ছাত্রদের তিনি নেতা ছিলেন।
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি বেলা তিনটার দিকে রফিক ঢাকা মেডিকেল কলেজ ব্যারাকের গেটের নিকট ছিলেন। তখন পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। রফিকউদ্দিনের মাথায় গুলি লেগে মগজ বেরিয়ে যায়। মগজ ও রক্ত ঘাসে মাখামাখি হয়ে যায়। রাত তখন আনুমানিক ৯টার মতো হবে। ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডে কর্মরত জনৈক ডাক্তার বা কর্মকর্তার নিকট থেকে রফিকের মামা মোবারক আলী খান জানতে পারেন যে হাসপাতালে ৪টি লাশ রয়েছে। তিনি রফিকের চেহারার বর্ণনা দিয়ে বলেন যে, রফিকের মাথার চুল কোঁকড়ানো, নাক লম্বা, দাঁত কিছুটা উঁচু, গায়ে হালকা নীল রংয়ের শার্ট, পরনে সাদা প্যান্ট ও নেভি রঙের মোজা এবং পায়ে কালি দেয়া পুরাতন ইংলিশ সু। কর্মকর্তা জানতে চান রফিকের কাছে কোনো কলম ছিল কিনা। উত্তরে মোবারক আলী জানান যে, তাঁর নিকট একটি পুরনো সেফার্স কলম ছিল। কর্মকর্তা কলমটি দেখান। এটি ছিল নিঃসন্দেহে রফিকের কলম । মোবারক আলী লাশ দেখার অনুমতি প্রার্থনা করেন। কর্মকর্তা জানালেন যে, মিলিটারি প্রকোষ্ঠের তালা বন্ধ করে রেখে গেছে। অতঃপর মোবারক আলী হতাশ হয়ে যে কক্ষে লাশ রাখা হয়েছে সেখানে যান। তিনি জানালা দিয়ে লাশগুলো দেখার চেষ্টা করেন। একজন বাঙালি বেয়ারা মোবারক আলীর নিকট আসেন এবং মোবারক আলীকে তার কাঁধে দাঁড় করিয়ে লাশ দেখাবার চেষ্টা করেন। মোবারক আলী তাঁর কাধে দাঁড়িয়ে জানালা দিয়ে দেখতে পান সাদা চাদরে আবৃত চারটি লাশ। তিনি রফিকের মাথার চুল ও পা এর জুতো দেখতে পেয়ে রফিকের লাশের ব্যাপারে নিশ্চিত হন।
রাতে মিলিটারির পাহারায় লাশগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়। তিনি গোরস্থানে চলে যান। রাত তখন প্রায় শেষ। তিনি আজিমপুরে পৌঁছবার পূর্বেই দাফন কাজ সম্পন্ন হয়ে যায়।
শহীদ রফিকউদ্দিনের পিতা-মাতা ও আত্মীয় স্বজন তাঁর লাশ দেখতে পারেন নি। বহু চেষ্টা করে কবরেরও খোঁজ পাননি তাঁরা।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর গ্যালারি পরিচিতি, ভাষা আন্দোলন