
জন্ম: ১৯২৭ সালের জুন মাস
মৃত্যু: ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি
জন্মস্থান: পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দি মহকুমার ভরতপুর থানার বাবলা নামক গ্রাম
আবুল বরকত পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দি মহকুমার ভরতপুর থানার বাবলা নামক গ্রামে ১৯২৭ সালের জুন মাসে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম শামসুজ্জোহা। বাবলার পার্শ্ববর্তী গ্রাম তালিবপুর হাই ইংলিশ স্কুল থেকে তিনি ১৯৪৫ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেন। ১৯৪৮ সালে তিনি পূর্ব বাংলায় চলে আসেন এবং ঢাকায় তাঁর মামা আবদুল মালেকের পুরানা পল্টন লাইনের ‘বিষ্ণুপ্রিয়া ভবনে’ মৃত্যুর দিন পর্যন্ত বসবাস করেন। ১৯৪৮ সালেই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে অনার্সে ভর্তি হন। ১৯৫১ সালে তিনি অনার্স পরীক্ষায় দ্বিতীয় শ্রেণীতে চতুর্থ স্থান পান।
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকায় আবুল বরকত ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিলে যোগদান করেন। বেলা ৩ টায় ছাত্র-জনতার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ তীব্র হয়ে উঠলে পুলিশ হঠাৎ কোনো সতর্কতা উচ্চারণ না করে গুলি শুরু করে। বরকতের তলপেটে গুলি লাগে। তখন তাঁর গায়ে ছিল নীল রঙের হাওয়াই হাফ-শার্ট, পরনে খাকি প্যান্ট এবং পায়ে স্যান্ডেল। একজন আহত আবুল বরকতের দুই পা কাঁধে তুলে নিলেন, আরেকজন মাথা নিলেন কাঁধে। দৌঁড়াতে লাগলেন তাঁরা বরকতের লম্বা সুঠাম দেহটা নিয়ে। নিয়ে যেতে কষ্ট হচ্ছিল। বরকতের কোমর ঝুলে গেছে। সেখান থেকে টপটপ করে রক্ত ঝরছে। বরকত পানি চাইলেন, কিন্তু পানি না থাকায় একটি ভেজা রুমাল তাকে চুষতে দেয়া হলো। পুলিশ দেখলে গুরুতর আহত বরকতকে কেড়ে নিতে পারে, তাই তাঁরা দৌঁড়াতে থাকেন। তখন দু-তিনজন এগিয়ে এলেন সাহায্য করতে। একজন তাঁর কোমরে কাঁধ দিলেন। বরকত বললেন, “খুব কষ্ট হচ্ছে। বাঁচব না। বিষ্ণুপ্রিয়া ভবন, পুরানা পল্টনে খবর পৌঁছে দেবেন।' তাঁকে ইমারজেন্সি ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হয় ।
আবুল বরকত মারা যান রাত আটটার দিকে। ডাক্তাররা তাঁকে বাঁচাবার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্ত, রক্তক্ষরণ আর বন্ধ করা যায় নি।
২১শে ফেব্রুয়ারি রাত দশটার দিকে আবুল বরকতের লাশ হাসপাতাল থেকে কড়া পুলিশ পাহারায় আজিমপুর পুরাতন গোরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। বরকতকে কবর দিয়ে যখন সবাই বাড়ি ফেরেন তখন ভোর হয়ে গেছে। প্রভাতের সঙ্গে সঙ্গে শহরে বিষাদের ছায়া নেমে আসে। রাজধানীর কর্মময় জীবন সম্পূর্ণরূপে নিস্তেজ হয়ে যায়। বরকত লাল রক্তে স্নাত হয়ে বাংলা ভাষার মর্যাদা সুপ্রতিষ্ঠিত করে গেলেন।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর গ্যালারি পরিচিতি, ভাষা আন্দোলন